উত্তর চট্টগ্রামের প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং সর্ববৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাজিরহাট কলেজ। এতদঞ্চলের শিক্ষাসুযোগ-বঞ্চিত, অনগ্রসর, গরিব জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্ঞানপ্রদীপ জালিয়ে আলোকিত ও কর্মদক্ষ মানুষ সৃষ্টির প্রত্যয়ে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নাজিরহাট কলেজ। মাওলানা আফজাল আহমেদ চৌধুরী অনেকের সহযোগিতায় নিয়ে কলেজকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন,তাদের সকলের অবদান অবিস্মরণীয়,একলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন সুরেন্দ্র লাল সেনগুপ্ত, কলেজ প্রতিষ্ঠাতার পর থেকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার অগ্রগতি সহ সামগ্রিক উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রেখে চলেছে । যুগের চাহিদা অনুসারে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন ও সৃজনশীল আলোকিত মানুষ সৃষ্টি এই কলেজের লক্ষ্য।সূচনালগ্ন থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমকে অনুসরণ করে এই কলেজের পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ২০টি বিষয়ের আওতায় বর্তমানে প্রায় ৩,৫০০ (সাড়ে তিনহাজার) শিক্ষার্থী এই কলেজে অধ্যয়ন করছে। ৫৫ জন শিক্ষক ও ৩০ জন বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী বর্তমানে এ কলেজে কর্মরত আছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড়যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত নাজিরহাট কলেজ ১৯৬২ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।এই প্রাচীনতম কলেজটি চট্টগ্রাম কলেজ ও স্যার আশুতোষ কলেজের পর চট্টগ্রাম জেলায় প্রতিষ্ঠিত ৩য় কলেজ। কালের বাস্তবতায় বর্তমানে আশেপাশে অনেক নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষা ক্ষেএে নাজিরহাট কলেজ অদ্বিতীয়। নৈসর্গিক পরিবেশ পরিবেষ্টিত এই কলেজ শিক্ষার যথার্থ চারণভূমি হিসেবে যুগ-যুগ ধরে সুখ্যাতি অর্জন করেছে।চট্টগ্রামের হাটহাজারী-ফটিকছড়ি-ভূজপুর থানার সংযোগ স্থলে প্রায় ৫৫(পঞ্চান্ন) বিঘা জমিতে অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সুবিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে এই কলেজ বিগত প্রায় সাতদশক ধরে এতদঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই কলেজের বিপুল সম্পদ, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, পাবলিক পরীক্ষায় ঈর্ষনীয় ধারাবাহিক সাফল্য, সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম (যেমন- বিতর্ক অনুষ্ঠান, সাহিত্য ও সাংস্কতিক প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় দিবসসমূহ উদযাপন ইত্যাদি) সহ এলাকার সামাজিক উন্নয়নে এই কলেজের ইতিবাচক ভূমিকা সর্বমহলের কাছে স্বীকৃত ও প্রশংসিত।সর্বোপরি, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-র ছয়দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নাজিরহাট কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী-অভিভাবকবৃন্দ প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে। এই ধরনের নজির বাংলাদেশের অন্যান্য অনেক কলেজে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সুতরাং নাজিরহাট কলেজ স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত-এ কথা নির্দ্ধিধায় বলা যায়।নাজিরহাট কলেজ সম্পর্কিত কয়েকটি তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলোস্থাবর সম্পত্তি ৫৫ বিঘার সুবিশাল ক্যাম্পাস : হালদা-মন্দাকিনীর সঙ্গমস্থলে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশে ৬৪ প্রজাতির ছয় হাজারের অধিক বৃক্ষরাজিসমেত ছায়া-সুনিবিড় বিশাল ক্যাম্পাস। নাজিরহাটের বর্তমান বাজার মূল্য হিসাব করলে শুধুমাত্র কলেজের ভূমির বর্তমান বাজার মূল্য হবে প্রায় তিনশত কোটি টাকা।অবকাঠামো-বর্তমানে ৭টি বহুতল ভবন (৩-৪তলা) এবং ৪টি ১তলা ভবন বিদ্যমান। বর্তমানে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১১কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ছাত্রদের জন্য আবদুর রশিদ চৌধুরী ছাত্রাবাস এবং শিক্ষকদের জন্য একটি কোয়ার্টার রয়েছে। আছে কলেজের নিজস্ব মসজিদ, সুবিশাল দিঘিসহ ৩টি পুকুর, ১০ (দশ) হাজারেরও বেশি গ্রন্থসমৃদ্ধ সুবিশাল গ্রন্থাগার, ৪টি আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং ১টি আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ল্যাব।খেলার মাঠ কলেজের নিজস্ব সুবিশাল খেলার মাঠ রয়েছে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতেও মানুষ যখন ভয় পেতো, সেসময় থেকেই ঐতিহাসিক এ মাঠে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়ে আসছে। দেশি-বিদেশি অনেক বরেণ্য ফুটবলার এ মাঠে খেলে গেছেন। আবার এই মাঠ থেকে জাতীয় পর্যায়ের অনেক খেলোয়ারের জন্ম হয়েছে।১৯৭১সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনালগ্নে ঐতিহাসিক এ মাঠে পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ইপিআর থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন জওয়ান ও মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ভিপি শহিদ আবদুর রব-এর নেতৃত্বে এলাকার মুক্তিপাগল ছাত্র-জনতা-শিক্ষকদের সমন্বয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিলো। যার আক্রোশে পরবর্তীতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কলেজ ভবনের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছিলো।নিজস্ব মসজিদ কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরিকৃত সুরম্য মসজিদ কলেজসহ এলাকার ধর্মীয় চাহিদা পূরণ করছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ২০০মিটারের মধ্যে ২টি রেল স্টেশন, বাস স্টেশন এবং নদীপথে যোগাযোগের সুবিধা রয়েছে।অনার্সকোর্স বর্তমানে হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্সকোস চালু রয়েছে এবং আরো ৫টি বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার প্রক্রিয়া চলমান আছে।স্বেচ্চাসেবী সংগঠন  শিক্ষার্থীদের সেবামূলক মানস গঠন ও নেতৃত্ব উন্নয়নে বিএনসিসি (সেনাশাখা) ও রোভার স্কাউট স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের সাথে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আসছে।কলেজের অর্জন  সূদীর্ঘ প্রায় সাত দশকের পথ চলায় এ কলেজের শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে ১ম স্থানসহ অনেকবার মেধা তালিকায় স্থান লাভ করেছে। একইভাবে ডিগ্রি পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনেকবার মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। ২০০১ ও ২০০২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নাজিরহাট কলেজকে চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।বনায়নে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেছে । জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে নৃত্যে জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছে। ফুটবলে বিভাগীয় পর্যায়ে রানার আপ হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে ১৯৯৭সালে জাতীয় পর্যায়ে ৫ম পুরস্কার এবং ২০০২সালে সমগ্র দেশে দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে ১৯৯৫সাল থেকে ২০০৪সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পর পর দশবার চট্টগ্রাম জেলায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভের অনন্য গৌরব অর্জন করেছেএইকলেজ।অধ্যক্ষের বক্তব্য কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ জনাব এস,এম, নূরুল হুদা এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রাণের দাবী নাজিরহাট কলেজকে জাতীয়করণ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে বলেন- কলেজ জাতীয়করণে বর্তমান সরকার যে সাতটি মৌলিক নীতি নির্ধারণ করেছেন নাজিরহাট কলেজে তা শতভাগ বিদ্যমান রয়েছে। বরং তার অতিরিক্ত এমন কিছু বৈশিষ্ট্য এই কলেজ ধারণ করে, যা বাংলাদেশের অন্য অনেক কলেজে অনুপস্থিত। এমতাবস্থায় নাজিরহাট কলেজ জাতীয়করণে কোন রকম বাধা থাকতে পারে না। ইতোমধ্যে স্থানীয় সাংসদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ-এর ডিও লেটারসহ শিক্ষামন্ত্রণালয়ের চাহিদা মোতাবেক কলেজের যাবতীয় তথ্য যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।ঐতিহ্যবাহী নাজিরহাট কলেজের উল্লিখিত তথ্যাদি এবং অবদানকে গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করলে নি:সন্দেহে কলেজটি জাতীয় করণের অর্ন্তভূক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে বলে এতদঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ মনে করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, নাজিরহাট কলেজের অনেক পরে প্রতিষ্ঠিত শত-শত কলেজ ইতোপূর্বে জাতীয়করণ করা হলেও কেবল রাজনৈতিক অবহেলায় এই কলেজ জাতীয়করণে বারবার পিছিয়ে যায়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বর্তমানে নাজিরহাট কলেজের গভনির্ং বডি’র সভাপতি। তিনি বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ কর্মসূচির আওতায় নাজিরহাট কলেজকে জাতীয়করণের অর্ন্তভুক্ত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাজিরহাট কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ এস,এম, নূরুল হুদা এই ব্যপারে মন্ত্রী মহোদয়কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কলেজের বর্তমান গভর্নিংবড়ির সভাপতি পানি সম্পাদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে বডির অন্যান্য সদস্যদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় কলেজকে আরো উন্নতির শিকড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন একাডেমিক ভবন। চালু করা হয়েছে অনার্স কোর্স । পরিবর্তন হচ্ছে কলেজের দৃশ্যপট।হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের হাতে গড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বর্তমান কান্ডারী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত শেখ হাসিনা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এতদঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নাজিরহাট কলেজকে জাতীয়করণ করার দাবী জানাচ্ছে,